সাহিত্য জগতে নক্ষত্রপতন, করোনায় প্রয়াত হলেন বাঙালি কবি শঙ্খ ঘোষ

01:25 PM Apr 21, 2021 | surojit

চলে গেলেন কবিতা জগতের আরেক নক্ষত্র শঙ্খ ঘোষ। গত বছর আমরা হারিয়েছি বহু শিল্পীদের। এবছরেও বন্ধ হয়নি মৃত্যু মিছিল। একুশের শুরু থেকেই করোনারি দ্বিতীয় ঢেউ নিজের ভয়াবহতার প্রমাণ রাখতে শুরু করেছে। এবার কেড়ে নিল আরেক প্রতিভাবান লেখককে। সাহিত্য জগতে নেমে এল শোকের ছায়া। জীবনানন্দের পরে বাংলা সাহিত্য জগতের পঞ্চ পান্ডব ছিলেন শক্তি, সুনীল, শঙ্খ, উৎপল, বিনয়। বাকিরা তো অনেক দিন আগেই চিরনিদ্রায় গেছিলেন। এবার নিভে গেল শেষ প্রদ্বীপ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শঙ্খ ঘোষের অবদান অনস্বীকার্য। নিজের সুদীর্ঘ কর্মজীবনে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতীতে অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব আইওয়ার-এ অনুষ্ঠিত ‘রাইটার্স ওয়ার্কশপ’-এ উপস্থিত ছিলেন তিনি। দুই বছর আগেও নিজের লেখা কবিতা ‘মাটি’-র মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। এই রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ কবির বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলি হলো ‘দিনগুলি রাতগুলি’, ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’।

নিজের অসাধারণ সাহিত্যের জন্য তিনি পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য অ্যাকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি কন্নড় ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় ‘রক্তকল্যাণ’ নাটকটি অনুবাদ করে সাহিত্য অ্যাকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০১১ সালে তিনি পদ্মভূষণ সম্মান লাভ করেন।

অনেক দিন ধরেই বয়েস জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন কবি শঙ্খ ঘোষ। তারজন্য জানুয়ারি মাসে তাঁকে একবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে জ্বর আসায় করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তখনই জানা যায় কোভিড আক্রান্ত তিনি। সেইসময় হাসপাতালে ভর্তি হতে চাননি কবি। তাই বাড়িতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। তারপর হঠাৎ করেই অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে ভেন্টিলেটরে রাখা হয় তাঁকে। কিন্তু ‌শেষরক্ষা হয় না তাতে। অবশেষে তিনি সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যান।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোক প্রকাশ করেছেন কবির মৃত্যুতে। তিনি প্রথমেই কবি শঙ্খ ঘোষকে দাদা বলে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন শঙ্খদার মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করছি। তার পরিবারের সকলকে তিনি সমবেদনা জানিয়েছেন। যদিও কবি কোভিডে মারা গেছেন তাও তিনি চেষ্টা করছেন তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সাথেই যেন কবির শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। সেরকমই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য সচিবকে। যেহেতু কবি শঙ্খ দা গান স্যালুট পছন্দ করতেন না। তাই সেটা বাদ রাখা হবে।